|
প্রকল্পের নাম: সিলেট বিভাগীয় জাদুঘর বিশ্ববিদ্যালয়: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় |
|
প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: সিলেট বিভাগীয় জাদুঘর, সিলেটের সংস্কৃতি সংরক্ষণকে একটি জীবন্ত ও চলমান অভিজ্ঞতা হিসেবে নতুনভাবে কল্পনা করে। সিলেটের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপট ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই প্রকল্পে নীরব ও ভাবগম্ভীর প্রদর্শনী গ্যালারির ধারাবাহিকতা এবং উন্মুক্ত জনপরিসর একসঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা মানুষকে সমবেত হওয়া, শেখা ও ভাববিনিময়ের সুযোগ দেয়। নকশাটি মানুষ ও বিভিন্ন স্থানের মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনুন্নত কুমারগাঁও এলাকায় উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ইতিহাস, প্রকৃতি ও নাগরিক জীবনকে একসূত্রে গেঁথে এই জাদুঘর সিলেটের ঐতিহ্যের সংরক্ষক এবং ভবিষ্যতমুখী উন্নয়নের এক প্রেরণাদায়ক প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে, যেখানে অতীত পথ দেখায় আগামীকে। |
|
সাইট প্রেক্ষাপট: প্রস্তাবিত সিলেট বিভাগীয় জাদুঘর, সিলেট শহরের ক্রমবিকাশমান এলাকা কুমারগাঁওয়ে অবস্থিত, যেখানে আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট পরিসরের বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং উন্মুক্ত জমি একসঙ্গে বিদ্যমান। সাইটটি উপ-ধমনী এবং স্থানীয় সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত, যেখানে রিকশা, সিএনজি ও ব্যক্তিগত যানবাহনের নিয়মিত চলাচল রয়েছে, ফলে এলাকা সহজে প্রবেশযোগ্য হলেও পরিবেশগত দিক থেকে তুলনামূলক শান্ত। নিম্ন-উচ্চতার ভবন, সবুজ খোলা স্থান, জলাভূমি ও উদ্ভিদের উপস্থিতি এই অঞ্চলে একটি আধা-গ্রামীণ আবহ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি সাংস্কৃতিক স্থাপনার সংযোজন নগরায়ণ ও প্রাকৃতিক সংবেদনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক একটি ল্যান্ডমার্ক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। |
|
কনসেপ্ট: ”চা-বাগানের ঢালে বসে, শুনি পাখির গান। দূর পাহাড়ের কুয়াশাতে, হারাই আমি প্রাণ।” হাসন রাজার কালজয়ী পঙক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিলেট বিভাগীয় জাদুঘর প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে স্থাপত্যের ভাষায় প্রকাশ করেছে। কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, চা-বাগান ও নদীঘেরা এই অঞ্চলের শান্ত সৌন্দর্য ভবনের নকশায় রূপ পেয়েছে অনুভূতির পরিসর হিসেবে। দর্শনার্থীর যাত্রাপথে ইতিহাস কেবল তথ্য নয়, বরং এক আত্মিক অনুভব, যেখানে স্থাপত্য হয়ে ওঠে কবিতা আর প্রকৃতি বলে গল্প। |
|
দৃষ্টিভঙ্গি: সিলেট বিভাগীয় জাদুঘর কেবল কিছু নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য নির্মিত একটি ভবন নয়; এটি সিলেটের ইতিহাস, মানুষ ও সংস্কৃতিকে একত্রে ধারণ করা একটি জীবন্ত স্মারক। এই জাদুঘর একটি চলমান ইতিহাসের দলিল, যেখানে অতীত ও বর্তমান পরস্পরের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত। ঐতিহ্য: এই জাদুঘর সিলেটের ইতিহাস, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ধারাবাহিক ও গতিশীল উপস্থাপনায় দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরবে। কমিউনিটি: প্রদর্শনী গ্যালারির বাইরেও এটি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যেখানে শিক্ষা, সামাজিক মেলবন্ধন ও সামষ্টিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে জাদুঘরের দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠবে। উন্নয়ন: এই প্রকল্পটি অঞ্চলটির সমন্বিত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সুদৃঢ় করবে এবং ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। |
|
যাত্রাপথ: সিলেট বিভাগীয় জাদুঘরের ভ্রমণ শুরু হয় প্রকৃতি ও খোলা পরিসর দিয়ে, যা দর্শনার্থীকে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর প্রবেশ করা হয় প্রকৃতি গ্যালারিতে, যেখানে চা-বাগান, পাহাড়, নদী ও বন্যপ্রাণী প্রদর্শিত হয়। পরবর্তী ধাপে সংস্কৃতি গ্যালারিতে উঠে আসে লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব, সংগীত ও দৈনন্দিন জীবন। এরপর ঐতিহ্য গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয় ইতিহাস ও স্থাপত্য সম্পর্কিত নিদর্শন ও দলিলপত্র। যাত্রার শেষ পর্যায় আইকন গ্যালারি, যেখানে সিলেটকে গড়ে তোলা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান তুলে ধরা হয়। এই ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা সিলেটকে অনুভব করার একটি গভীর ও সুসংবদ্ধ যাত্রায় দর্শনার্থীকে নিয়ে যায়। |
|
জুরি বিবৃতি: প্রফেসর জাইনাব ফারুকি আলী: প্রকল্পটি সুচিন্তিতভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে এবং নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয়, বিশেষ করে ল্যান্ডস্কেপ নকশায় চিন্তাশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। উপরের অংশে পিরামিড আকৃতির স্কাইলাইট এবং ভূমিতে উঁচু চা-বাগানের বিন্যাস সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি বাড়ির রূপক হিসেবে একটি শক্তিশালী স্থাপত্যিক অভিব্যক্তি সৃষ্টি করেছে।
স্থপতি এহসান খান: প্রকল্পটির ধারণা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং স্থানিক যাত্রা আকর্ষণীয় ও সুবিন্যস্ত। নকশায় সাইট ও প্রেক্ষাপটের প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা লক্ষ্য করা যায়, এবং সেকশনগুলোর মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পিরামিড আকৃতির স্কাইলাইটগুলোর কাঠামোগত পদ্ধতিতে আরও পরিমার্জন আনলে প্রকল্পটির কারিগরি দিক আরও শক্তিশালী হতো। |
| প্রতিবেদক: স্থপতি ফাইজা ফাইরুজ |