-
|
ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের সংলাপ’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছে। এই প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে স্থাপত্যের মাধ্যমে জলবায়ু-উপযোগী এবং সকলের জন্য সামঞ্জস্যমূলক কমিউনিটি তৈরি করা সম্ভব। স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরীর উদ্যোগে এবং লুভা নাহিদ চৌধুরী ও ওয়াকিলুর রহমানের পরিচালনায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে স্থাপত্যকে শুধু ভবন নির্মাণের কাজ হিসেবে নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল একটি নকশাচর্চা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নকশা জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে চলতে, মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং জনজীবনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে সাহায্য করতে পারে। বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রদর্শিত বড় আকারের বিষয়ভিত্তিক আলোকচিত্রগুলো দর্শকদের স্থপতিদের কাজ ও তাদের স্থাপত্যচর্চাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ করে দেয়। |
|
প্রদর্শনীর মূল ভাবনা হলো, স্থাপত্যের জন্য বঙ্গীয় বদ্বীপ শুধু একটি ভৌগোলিক পটভূমি নয়; বরং এই ভূপ্রকৃতিই স্থাপত্যের চিন্তা ও নকশাকে প্রভাবিত করে। এ অঞ্চলে নদী প্রতিনিয়ত গতিপথ বদলায়, মৌসুমি বন্যায় ভূমির রূপ পাল্টে যায়। তাই এখানে স্থাপত্যের লক্ষ্য প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা নয়, বরং তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
প্রদর্শনীর প্রথম অংশ ‘বঙ্গীয় বদ্বীপ একটি বাস্তবতা’-এ এই অঞ্চলের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও ‘ঘর বাঁধা’ - এর সাংস্কৃতিক চর্চাটি বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে পরিবর্তনশীলতাকে কোনো সমস্যা হিসেবে নয়, বরং এমন একটি বাস্তবতা হিসেবে দেখা হয়েছে, যার সঙ্গে মানিয়ে চলা এবং সহাবস্থান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। |
‘সহাবস্থানের সংলাপ’ প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
‘সহাবস্থানের সংলাপ’ প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
‘সহাবস্থানের সংলাপ’ প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
দ্বিতীয় অংশে স্থপতিদের নকশা-দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ঢাকার বাস্তবতা থেকে তাদের এই স্থাপত্যচর্চার বিকাশ। স্থপতিদের মতে, স্থাপত্য শুধু ভবন নির্মাণের কাজ নয়, এটি মানুষের জীবন, সমাজ ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া।
এই ভাবনাগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়েছে একাধিক অংশগ্রহণমূলক স্থাপনার মাধ্যমে, যা প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। হাতে তৈরি মাটির টালি, বাঁশের পর্দা এবং কাপড়ের ছাউনির সাহায্যে নির্মিত এসব স্থাপনায় এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা বর্ষার আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে এবং আলো, বাতাস, আর্দ্রতা ও মানুষের চলাচল সহজভাবে চলতে পারে।
প্রদর্শনীটি শুধু গ্যালারির ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ভাবনা শহরের বিভিন্ন জায়গায়ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ অংশে প্রদর্শিত কিছু অস্থায়ী স্থাপনা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে কিছু সেবাকেন্দ্র, বিশ্রামের জায়গা এবং কমিউনিটির আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। |
|
‘সহাবস্থানের সংলাপ’ প্রদর্শনী (ছবিসত্বঃ সোশ্যাল মিডিয়া) |
|
দৈনন্দিন শহুরে পরিবেশে এসব স্থাপনা ব্যবহার করে দেখা হবে, কীভাবে জলবায়ু-উপযোগী ডিজাইন আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য ও সবার জন্য উন্মুক্ত জনপরিসর গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। প্রদর্শনীটি চলবে ২৭ জুন থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। পরিচালনায়: লুভা নাহিদ চৌধুরী ও ওয়াকিলুর রহমান |
| প্রতিবেদকঃ স্থপতি মুনিয়া আহমেদ মিম |